পথে যেতে যেতে পথচারী
- আপলোড সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০১:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ০১-০৭-২০২৬ ০১:৫৭:০৩ পূর্বাহ্ন
বিশ্ব মা দিবসের কথা আমরা মোটামুটি সবাই জানি। কিন্তু সংসার জীবনে মা-এর পাশাপাশি বাবারও যে ভূমিকা আছে সে কথা আমরা বেমালুম ভুলে যাই। বাবা সারাদিন খাটাখাটনি করে যা ঘরে নিয়ে আসেন তা ঘরে বসে মা প্রস্তুত করে সন্তানের সামনে পরিবেশন করে থাকেন। তাই সংসারে সন্তানের ভরণপোষণ ও পরিচর্যার ক্ষেত্রে বাবারও অশেষ অবদান আছে যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। তাই বাবার এই শ্রম ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করে প্রতিবছর জুন মাসের ৩য় রোববার বিশ্ব বাবা দিবস পালিত হয়।
বিশ্ব বাবা দিবসের সূচনা হয় ১৯১০ সালের ১৯ জুন। উইলিয়াম স্মার্ট নামে এক মার্কিন নাগরিকের প্রতি সম্মান দেখিয়ে এই দিবসটি পালন করা হয়ে থাকে। উইলিয়াম স্মার্টের স্ত্রী ৬ সন্তান রেখে মারা গেলে তিনি আর বিয়ে করেন নি। নিজের মধ্যে এক মহান ত্যাগ সৃষ্টি করে তিনি ৬ সন্তানদের পেছনে শ্রম দিতে থাকেন। সন্তানদেরকে তাদের মায়ের শূন্যতা বুঝতে দেন নি মি. স্মার্ট। সন্তানরাও পিতার ¯েœহে লালিত-পালিত হয়ে বড় হতে থাকে। এই ৬ সন্তানের মধ্যে একজন ছিল সোনারা ডোড। এই সোনারা ডোড পিতার মহান ত্যাগকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে গিয়ে এই দিবসের সূচনা করেন।
মোঘল স¤্রাট বাবরের কথা জানি। তার পুত্র হুমায়ুনকে দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত করে জীবন দান করতে মহান আল্লাহর কাছে নিজের জীবন দান করতে চেয়েছিলেন তিনি। ইসলাম ধর্মের পবিত্র কোরআনে বর্ণিত আছে যে, “তোমাদের প্রভু তোমাদের নির্দেশনা দিচ্ছেন, তোমরা একমাত্র তারই এবাদত করবে এবং বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণ করবে। তাঁদের একজন অথবা উভয়ে যদি বার্ধক্যে উপনীত হয়, তবে তুমি তাঁদের প্রতি বিরক্ত হয়ে শব্দটি পর্যন্ত করবে না ‘ওহ’। তুমি তাদের পরিত্যাগ করবে না। আর তুমি তাঁদের সঙ্গে ন¤্র ও বিনয়ী হয়ে কথা বলো।
পৃথিবীতে সব ধর্মেই বাবা-মা’র প্রতি সম্মান প্রদর্শনের কথা বলেছেন। ইসলামের প্রিয় নবী (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি মা-বাবাকে পেল অথচ এদেরকে সন্তুষ্ট করে জান্নাতের মালিক হতে পারল না, সে বড়ই দুর্ভাগা। সেজন্যই একটি দিবসে কেবল নয়, বছরের প্রতিটি দিন প্রতিটি ক্ষণে বাবাকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা উচিত। আমরা আজকাল দেখি বাবাদের প্রতি অবহেলা করছে তার সন্তানেরা।
খুব বাস্তব থেকে একটি ঘটনা। একজন পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজসেবক ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তিন সন্তানের সবাই উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত। স্ত্রী, নিজের নামে এবং প্রত্যেক সন্তানের নামে রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট, প্রত্যেক সন্তানের নামে রাজধানী ঢাকায় কোটি টাকা মূল্যের দামি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। স্ত্রী মারা যাবার পর বৃদ্ধের ভরণ-পোষণের ভার কোনো সন্তানেই নিতে পারল না। বড় ছেলের বাসায় নিয়ে রাখলেও ছেলের বউ তার বৃদ্ধ শ্বশুরকে সাথে রাখতে অস্বীকৃতি জানালে অসহায় ছেলে অফিসের নিচে তার দারোয়ানের সাথে থাকার ব্যবস্থা করলো পিতাকে। অথচ তার নিজের নামে ফ্ল্যাট ও প্রচুর অর্থ স¤পদ রয়েছে। এই হলো আমাদের সমাজে অনেক বাবাদের অবস্থা।
২০১২ সালের একটি ঘটনা। ভারতের রাজস্থান রাজ্যের ভারতপুরের বাবলু জাতাভের স্ত্রী শান্তিদেবী মারা যান কন্যা সন্তান জন্মদানের পরপরই। বাবলু জাতাভ পেশায় রিকসা চালক। বিয়ের ১৫ বছরের মাথায় জন্ম হয় এই কন্যার। খুব বিপাকে পড়েন বাবলু জাতাভ। স্ত্রী শান্তি দেবীকে খুবই ভালোবাসতেন তিনি। এখন নিরুপায় বাবলু একমাস বয়সী কন্যা সন্তানকে বুকে বেঁধে নিয়ে রিকসা চালান শহরে। দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান না বাবলু জাতাভ। তার এই কন্যা বুকে নিয়ে রিকসা চালানোর দৃশ্য তখন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হলে নেট দুনিয়ায় ঝড় তোলে। এই হলো আমাদের বাবা।
সোনারা লুইস স্মার্ট ডোড বাবা দিবসের সূচনা করলেও তাকে সহায়তা করেন সে সময়কার রাজনৈতিক নেতা উইলিয়াম জেনিংস ব্রায়ান। এভাবে বিষয়টি সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে অবশেষে নজরে আসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২৮তম প্রেসিডেন্ট টমাস উড্রো উইলসনের। উইলসন ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৯১৩ সাল থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা প্রেসিডেন্ট। তিনি দিবসটিকে গুরুত্ব দিয়ে ১৯১৬ সালে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বীকৃতি দেন বাবা দিবসকে। পরে ১৯৬৬ সালে প্রেসিডেন্ট লিনস জনসন আবার স্বীকৃতি দেন বাবা দিবসকে। শেষবারের মতো ১৯৭২ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন স্থায়ীভাবে স্বীকৃতি দেন বিশ্ব বাবা দিবসকে।
আমরা সবাই আমাদের বাবাদের বৃদ্ধাশ্রমে না পাঠিয়ে নিজেদের কাছে স্ত্রী-সন্তানদের কাছাকাছি রাখবো - এই প্রত্যাশা করি। বিশ্ব বাবা দিবসে আমরা প্রতিজ্ঞা করি আমাদের বাবা আমাদের মাথার তাজ হয়ে থাকুন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ

সুনামকন্ঠ ডেস্ক